User ID :  
Password:  

আইন ও মানবাধিকার

ভূমিকা :

আইন তার নিজ গতিতে চলে এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। মানুষ হিসাবে নারী পুরুষ সকলেই যে অধিকার গুলো ভোগ করে তাই হলো মানবাধিকার । কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে, মানুষ আইন অমান্য করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়ে নিজের এবং অপরের ক্ষতি করে। যাকে আমরা আইন বহির্ভুত কাজ বলি। মানুষ যেন নিজ পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রে এ ধরণের আইন বহির্ভুত/অপরাধমূলক কাজগুলো থেকে বিরত থাকে সে জন্যই আইন এবং রাষ্ট্রে আইনের ব্যবহার।
মানুষ হিসাবে ও নারী হিসাবে দেশের সর্ব্বোচ্চ আইন সংবিধান, অন্যান্য আইন, আর্ন্তজাতিক দলিলে নারীর যে অধিকার এবং অগ্রাধিকারগুলো রয়েছে সেগুলোই নারীর অধিকার ।

ডি.নেট হেল্পলাইন থেকে প্রদত্ত আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেবার ধরণ এবং প্রশ্নের উদাহরণ

মূলত: ডি.নেট হেল্পলাইন মানুষের সকল প্রকার আইনগত অধিকার সম্পর্কে তথ্যসেবা দিতে ও সচেতন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে । তাই বলা যায়-
. নারী বা পুরুষ হিসাবে একজন মানুষের কি কি অধিকার রয়েেেছ সে সকল বিষয় সম্পর্কে জানানো
. নারী হিসাবে নারীর কোন অধিকারের লংঘন হলে অথবা মানুষ হিসাবে মানুষের কোন অধিকার থেকে কাউকে
বঞ্চিত করা হলে সেই হারানো অধিকার ফিরে পেতে কোথায় যেতে হবে বা কোথায় গেলে প্রতিকার পাওয়া যাবে সে বিষয়ে হেল্পলাইন তথ্য সেবা দিয়ে থাকে ।
আইন ও মানবাধিকার এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ এবং নমুনা প্রশ্নের উদাহরণ
নারী অধিকার

যেমন: হিন্দু ও মুসলিম আইনের অধীনে বিবাহের নিয়ম কানুন (বিয়েতে অবশ্য পালনীয় বিষয় সমূহ, বিাবহের কয়জন সাক্ষী প্রয়োজন, বিবাহের অভিভাবক কে কে হতে পারে, বিবাহের আইন সম্মত বয়স, বিবাহে মেয়ের সম্মতি প্রয়োজন কিনা ইত্যাদি বিষয় সমূহ) ।
তালাক (যেমন: মুখে মুখে তালাক দেয়া যায় কিনা, তালাকের কতদিন পর বিয়ে বৈধ, তালাক রেজিষ্ট্রশন করতে হয় কিনা , তালাক কত প্রকার ইত্যাদি)।
দেনমোহর (দেনমোহর কখন পাওয়া যায়, দেনমোহর মাফ হয় কিনা, মেয়ে নিজে তালাক দিলে দেনমোহর পাওয়া যায় কিনা, ছেলে পক্ষ তালাক দিলে দেমোহর পাওয়া যায় কিনা, দেনমোহর আদায় করতে কিভাবে আইনের আশ্রয় নেয়া যায় ইত্যাদি।)
ভরণপোষন ( কখন ভরণপোষন পাওয়া যায়, ছেলে মেয়ের ভরনপোষন করতে কে বাধ্য, স্ত্রীর ভরনপোষন কে করতে বাধ্য, ভরনপোষন আদায় করার বিভিন্ন পদ্ধতি গুলো কি ইত্যাদি)।
বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ( বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কোথায় করবো, কে এই দায়িত্ব পালন করবে, খরচ কত এবং কিসের উপর নির্ভর করে , রেজিস্ট্রেশন না করার শাস্তি ইত্যাদি) ।
এখানে উল্লেখ্য যে উপরের সকল বিষয়ে হিন্দু, খ্রিষ্টান আইনের অধীনেও একই রকম সমস্যা আসতে পারে । যেমন : হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদ কিভাবে হয়, হিন্দু মহিলার ভরনপোষন দিতে কে বাধ্য, হিন্দু মহিলা স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থেকেও ভরনপোষন পেতে পারে কিনা , হিন্দু ও খ্রীষ্টান আইনে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয় কিনা, হিন্দু আইনে দওক নেয়া যায় কিনা, কাকে দত্তক নেয়া যায় ইত্যাদি বিষয় সমূহ)।
ভরণপোষন
প্রশ্ন : ছয় মাস হলো স্বামীতে তাড়িয়ে দিয়েছে, এখন সে তালাক ও দেয়না আবার কোন খরচও দেয়না, বাড়িতেও উঠতে দেয়না। এখন কোন ধরনের আইনের আশ্রয় নিলে এর সমাধান পাওয়া যাবে। আমি আইনের আশ্রয় নিতে চাই ।
বিবাহ রেজিস্ট্রেশন
প্রশ্ন : বিবাহের রেজিস্ট্রেশন খরচ কত এবং এটি কিসের উপর নির্ভর করে ?
তালাক
প্রশ্ন : আমার এক নিকট আত্মীয়ার (মহিলা) তালাক হয়েছে ২মাস হয়েছে। কিন্তু তার আবার পারিবারিক ভাবে বিবাহ ঠিক করা হয়েছে। আমি শুনেছি তালাকের তিন মাস পার হবার আগে বিবাহ দেয়া যায় না। এটি কি ঠিক এবং তাকে কি বিবাহ দেয়া যাবে।
মেয়েদের রাস্তায় নিরাপদে চলাচল সংক্রান্ত বিষয়:
. (যেমন : বখাটে ছেলেদের বাজে অঙ্গভঙ্গি বা অশালীন আচরন সংক্রান্ত প্রতিকার ।)
প্রশ্ন : আমার মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার পথে কিছু বখাটে ছেলে খারাপ অঙ্গভঙ্গি করে। আমি এ বিষয়ে কোথায় গেলে উপকৃত হবো জানতে চাই ।
নারী নির্যাতন বিষয়ক :
যেমন :
ধর্ষন (ধর্ষন সংঘটিত হলে প্রথমে কোথায় যেতে হবে এবং কি করতে হবে, ধর্ষনের শাস্তি কি, বিনাখরচে ধর্ষনের আইনগত সহায়তার জন্য কোথায় যোগাযোগ করতে হবে ইত্যাদি বিষয় ।)
শারীরিক নির্যাতন (শারীরিক নির্যাতনের প্রতিকারের জন্য কোথায় যেতে হবে ।)
যৌতুক চেয়ে নির্যাতন (যৌতুকের শাস্তি কি, বিনাখরচে আইনহত সহায়তা পেতে কোথায় যেতে হবে।)
হিলা বিবাহ (হিলা বিবাহ কি, এর শাস্তি কি, এর আইনগত বৈধতা আছে কিনা )
বহুবিবাহ (বহুবিবাহের শাস্তি কি, এর আইনগত বৈধতা আছে কিনা )
প্রাণহানীর হুমকি বা আশংকা হলে কোথায় যেতে হবে বা কি করবে ইত্যাদি বিষয়ক প্রশ্ন ।
ধর্ষন
প্রশ্ন: আমি জানতে চাই ধর্ষণ মামলা পরিচালনার জন্য ভিকটিমের কোন খরচ হবে কি । এই মামলা কি সরকার পরিচালনা করবে।
শারীরিক নির্যাতন
প্রশ্ন : আমার বিয়ে হয়েছে ৪ বছর। আমার একটি সন্তান আছে এরপর স্বামী আরেকটি বিয়ে করে। বিয়ের পর হতে আমার উপর জ্বালা যন্ত্রনা মারধর করে। কি করলে আমি এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাব ?
যৌতুক চেয়ে নির্যাতন
প্রশ্ন : ১ বছর থেকে আমার স্বামী যৌতুকের জন্য আমার উপর নির্যাতন করে আচ্ছে । ২-৩ মাস হল আমাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমি আইনের আশ্রয় চাই। সমাধান দিবেন।
শিশু অধিকার বিষয়ক:
যেমন :
শিশুদের শারীরিক নির্যাতন, (শিশুদের উপর শারিরিক নির্যাতন করা হলে কোথায় যেতে হবে )
জোর পূর্বক কোন অবৈধ কাজে নিয়োজিত করা যা তার জীবনের প্রতি হুমকি স্বরুপ, এক্ষেত্রে করনীয় কি ?
বাল্যবিবাহ (বাল্য বিবাহের শাস্তি কি , বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য কি করতে হবে, এর প্রধান দায়িত্ব কার )
নাবালকের অভিভাবকত্ব (নাবালক শিশুর অভিভাবক কে, নাবালক তার অভিভাবকের কাছ থেকে কি সুবিধা পেতে পারে, ইত্যাদ বিষয়)
জিম্মাদারিত্ব, (শিশুর জিম্মাদারিত্ব পাওয়ার অধিকার কার,স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তালাক হয়ে গেলে নাবালক সন্তানের জিম্মাদারিত্ব কার ইত্যাদি বিষয়)
নাবালকের সম্পত্তি (নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবক কে, এক্ষেত্রে সেবা গ্রহণকারীর ধর্ম উল্লেখ করতে হবে) ।
প্রশ্ন : শিশু অধিকার সমূহ কি ?
বাল্যবিবাহ
বাংলাদেশ সরকার বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলেদের জন্য ২১ বৎসর এবং মেয়েদের জন্য ১৮ বৎসর নির্ধারণ করেছেন। এর চেয়ে কম বয়সে যদি কেউ বিবাহ করে তবে তা আইনের দৃষ্টিতে দন্ডনীয় অবরাধ। আইন অমান্যকারীর শাস্তি ১ মাসের কারদন্ড অথবা ১০০০/- টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে।
প্রশ্ন : আমি একজন বাল্যবিবাহর শিকার। আমি বাল্য বিবাহ রোধ করতে চাই। আমার মা-বাবা জোর করে আমার বিয়ে দিতে চাই। আমি এখন কি করব। অতি সত্বর সমাধান দিলে আমার খুব উপকার হবে।
প্রশ্ন : আমি একটি ছেলেকে ভালো বাসি। সেও আমাকে ভালো বাসে। কিন্তু আমার বয়স এখনো ১৮ হয়নি। আমাকে আমার বাড়ি থেকে চাপ দিচ্ছে বিয়ে করার জন্য। কারণ আমার পিতা মাতা আমার জন্য ইতিমধ্যে ছেলে দেখছে। আমি ঐ ছেলেটি ছাড়া বাঁচবো না। আমার ইচছা লেখাপড়া শেষ করে আমি আমার পছন্দের ছেলের সাথে বিয়ে করবো। কিন্তু আমার বাড়ির সদস্যদের কারণে তা হচ্ছে না। এখন আমি করবো। একটু পরামর্শ চাই।
নাবালকের অভিভাবকত্ব,
প্রশ্ন : আমার স্বামীর সাথে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে । আমার ৫ বছরের একটি কণ্যা সন্তান আছে । আমার বাচ্চাকে কি আমি আমার কাছে রাখতে পারবো ? যদি পারি তবে কতদিন পর্যন্ত ।
পাচার:
নারী, পুরুষ, শিশু পাচার বিষয়ক
প্রশ্ন: পাচারকারী ব্যক্তি ধরা পড়লে তার শাস্তি কি ?
প্রশ্ন: পাচারকারীদের ধরিয়ে দিতে বা পাচার সংক্রান্ত খবর পেলে কোথায় জানাবো ?
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ বা সমস্যা:
(এক্ষেত্রে সেবা গ্রহণকারীর ধর্ম উল্লেখ করতে হবে।)
. বাটোয়ারা
. উত্তরাধিকার
. রেজিস্ট্রেশন
. নামজারী বা রেকর্ড
. দখল সংক্রান্ত
. খাজনা
. বর্গা চাষ ইত্যাদি বিষয় সমূহ ।
উত্তরাধিকার বিষয়ক
প্রশ্ন : আমি একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী । আমার পিতা ও ফুফুদের সাথে আমার চাচার মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ বেশ কিছু দিন ধরে লেগেই আছে। আমার চাচা আমার দাদা মারা যাবার পর আমার দাদিকে ভুল বুঝিয়ে জমি সব লিখে নিয়েছে। আমার দাদি কিছু দিন আগে মারা গেছে। কিন্তু পিতা ও ফুফুরা দাদার ও দাদির সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত। এখন কি করলে চাচার কাছ থেকে জমি ফেরৎ পাওয়া যাবে।
জমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত
প্রশ্ন : আমি ৫ শতক জমি কিনেছিলাম, রেজিষ্ট্রি ও করেছিলাম । জমি কেনার পর জানতে পারলাম যে, জমিটার আসল মালিক সে নয়। আসল মালিক বলছে পুনরায় তার কাছ থেকে কিনতে। এখন আমার কি করনীয় ?
বাটোয়ারা (বাবা মারা গেলে সন্তানরা তাদের সম্পত্তি কিভাবে ভাগ করে নিবে তার আইনগত পদ্ধতি )
উত্তরাধিকার (সন্তান হিসাবে কে কতটুকু সম্পত্তি পায় সে বিষয়সমূহ )
রেজিষ্ট্রেশন (জমি কিনলে বা জমি কেনার জন্য বায়না করলে বা জমি কাউকে দান করলে কিবাবে এবং কোথায় রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে, খরচ কত ইত্যাদি বিষয সমূহ)
নামজারী বা রেকর্ড (জমি রেকর্ড করতে কোথায় যেতে হবে ,কখন জমি রেকর্ড করতে হয় )
দখল সংক্রান্ত (জমি বেদখল হলে কোথায় যেতে হবে)
খাজনা ( খাজনা দিতে কোথায় যেতে হবে )
বর্গা চাষ সম্পর্কে কোন প্রকার তথ্য ইত্যাদি বিষয় সমূহ ।
দখল সংক্রান্ত
প্রশ্ন: আমার জমি মোট ৮ শতাংশ। এই জমি পাশের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ভোগ দখল করে নিয়েছে। গ্রাম্য শালিস করার পরও তা দখল দেয় না। এই অবস্থায় আমি কোন ধরনের আইনের সহায়তা নিলে আমার এই জমি ফিরে পাব।
বাটোয়ারা সংক্রান্ত
প্রশ্ন: আমরা পাঁচ ভাই। আমাদের জমির বন্টন হয়। যে অংশে বসত আছে সেটা আমার চাচাতো ভাইয়ের নামে পত্তন হয় এবং সেই জমিতে আমরা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বাস করছি এবং এখনো বাস করছি। আমার অংশটা কি আমি বিক্রি করতে পারি বা বিক্রি করতে চাইলে কি করতে হবে ?
অফিস আদালতে চাকুরি সংক্রান্ত সমস্যা :
প্রশ্ন: আমি সরকারি চাকুরিজীবি । আমাকে মিথ্যা অভিযোগে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে । আমি বর্তমানে আইনের আশ্রয় নিতে চাই ।
বিভিন্ন অপরাধমূলক সমস্যা :
যেমন:
খুন বা খুনের চেষ্টা (খুনের মামলা কোথায় দায়ের করতে হবে, খুনের শাস্তি কি ইত্যাদি বিষয় সমূহ )
আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা সহায়তা করা ( আত্মহত্যা করতে সহায়তা করা বা উস্কানি দেয়ার শাস্তি, আত্মহত্যা করতে গিয়ে বেঁচে গেলে তার শাস্তি)
মারামারি (মারামারি বিষয়ে কোন অভিযোগ দায়ের করতে হলে কোথায় যেতে হবে)
চুরি (চুরি হলে কোথায় যেতে হবে)
ডাকাতি (ডাকাতি হলে কোথায় যেতে হবে)
ছিনতাই (ছিনতাই হলে কোথায় জানাতে হবে)
প্রতারণা (প্রতারনার জন্য অভিযোগ কোথায় দায়ের করতে হবে ইত্যাদি)।
প্রশ্ন: আমার ভাই পূর্ব শত্র“তার জের হিসাবে খুন হয়েছে । আমরা এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই । আমরা কিভাবে আইনের আশ্রয় নিব ?
আইন বিষয়ক সাধারন ধারনা :
জিডি মূল্যবান যে কোন জিনিস হারালে যেমন- সার্টিফিকেট, দলিল, লাইসেন্স, পাসপোর্ট, মূল্যবান রসিদ, চেকবই, এটিএম বা ক্রেডিট কার্ড, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ইত্যাদি। অথবা কোনো প্রকার হুমকি পেলে বা হুমকির আশংকা থাকলে কিংবা কেউ নিখোঁজ হলেও জিডি করার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয়না, সেসব ক্ষেত্রেই থানায় জিডি করা যায়। বাড়িতে অপরিচিত লোক নিয়োগ দিলেও জিডি করা যাবে।
প্রশ্ন: জিডি কি ? কখন করা হয় ? এজাহার
কোন সংগঠিত অপরাধ সম্পর্কে থানায় প্রথম যে সংবাদ দেওয়া হয় সেটিই এজাহার/ প্রাথমিক তথ্য বিবরণী। যার উপর ভিত্তি করে কোন ঘটনার তদন্ত কাজ শুরু হয়। এছাড়া বলা যায় সুনির্দিষ্টভাবে কোন অপরাধ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করাই হলো এজাহার। এজাহারে উল্লেখিত অপরাধটি অবশ্যই আমুলযোগ্য হতে হবে।
প্রশ্ন: এজাহার কি? কে এজাহার করতে পারে ?
মামলা করার পদ্ধতি
প্রশ্ন: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ভোটের আগে প্রতিশ্র“তি দেয় অনেক কিছু করবো। কিন্তু ভোটের পরে তা করে না। আমার প্রশ্ন প্রতারণার দায়ের তাদের বিরুদ্ধে কি মামলা কর যায়।
কোথায় অভিযোগ দায়ের করতে হবে
প্রশ্ন: আমি জানতে চাই একজন মহিলার সম্পর্কে খারাপ কথাবার্তা বলে বেড়ালে সে কি যে ব্যাক্তি কথাবার্তা বলে বেড়াই তার নামে মামলা করতে পারবে । মহিলা সেই কাজ করে না তবুও শত্র“তা করে অন্যের কাছে মহিলা সম্পর্কে খারাপ কথা বার্তা বলা হয়।
উত্তরাধিকার বিষয়ক সমস্যা
মৃত্যুর পর ওয়ারিশগণ যে সম্পত্তি পান সেটা তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি । এক্ষেত্রে হিন্দু, মুসলিম আইন, খ্রিষ্টান আইনের উত্তরাধিকার বিষয়ক সমস্যা সমূহ এর অর্ন্তভূক্ত হবে ।
প্রশ্ন: আমরা দুই ভাইবোন । আমি মেয়ে সন্তান হিসাবে বাবা মায়ের কতটুকু সম্পত্তি পাবে ?
প্রশ্ন: আমার স্বামী কোন সন্তান না রেখেই এক মাস আগে মৃত্যুবরণ করেন। আমার বিয়ের বয়স তিন বছরও হয়নি। প্রশ্ন হলো আমার মৃত স্বামীর অর্জিত সম্পদের বন্টন নিয়ে আমার বাবার ও শ্বশুর বাড়ির মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হযেছে। আমি আমার মৃত স্বামীর অর্জিত সম্পদের কত অংশ পাবো এবং কত অংশ আমার স্বামীর বাবা পাবে। হিন্দু আইন বা ধর্ম মতে এর একটা উপায় জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন: আমার বোনের বিয়ে হয় ১৯৭৯ সালে এবং ৮১ সালে তালাক দেয় আমার বোন। তার একটি মেয়ে আছে যার বর্তমান বয়স ২০ বছর । আমার বোনের এখনও কোথাও বিয়ে হয়নি । প্রশ্ন হলো পূর্বের স্বামীর সম্পত্তির কোন অংশ আমার ভাগ্নি পাবে কি ? প্রশ্ন: আয়েশা তার মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর নিকট থেকে সম্পদের কোন অংশ পাবে কিনা ? পেলে কত অংশ পাবে ? প্রথম অর্থাৎ আয়েশার নিজের পিতার সম্পদের কত অংশ পাবে ?
যে কোন সামাজিক বা পারিবারিক বিরোধের সালিশ সংক্রান্ত পরামর্শ :
প্রশ্ন : আমার বিয়ে হয়েছে ৪ বছর । আমার একটি সন্তান আছে এরপর স্বামী আরেকটি বিয়ে করে। বিয়ের পর হতে আমার উপর জ্বালা যন্ত্রনা মরধর করে। কি করলে আমি এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাব ?
এসিড নিক্ষেপের ফলে ক্ষতিগ্রস্থকে আইনী পরামর্শ :
প্রশ্ন: এসিড মারলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ কি ধরনের সাজা হয় ?
প্রশ্ন : বাবু বিয়ে করতে রাজি নয় কিন্তু না করলে এসিড মেরে তার মুখ ঝলসিয়ে দিবে এমন ভয় দেখায় এমন অবস্থায় আমার বোনের জন্য আমি কিভাবে কোথায় আশ্রয় নিতে পারি ।
বিনাখরচে আইনী সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার তথ্য :
প্রশ্ন : আমার ছয় বছর হলো বিয়ে হয়েছে । আমি দুই সন্তানের মা। বছর খানেক হলো আমার স্বামী সন্তানসহ আমাকে খরচ দেয়না । কোন ধরনের আইনের সহায়তা নিলে আমার অধিকার ফিরে পাব ? আমি আর্থিকভাবে ততটা স্বচ্ছল নই । আমি কোথায় গেলে বিনা খরচে আইনি সহায়তা পাব ?
দত্তক সংক্রান্ত সমস্যার পরামর্শ :
(এক্ষেত্রে সেবা গ্রহণকারী কোন ধর্মাবলম্বী তা উ্েল্লখ করতে হবে । )
প্রশ্ন : আমি একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী। আমি নি:সন্তান। আমি সন্তান দত্তক নিতে চাই ।
এছাড়া যে কোন আইন সংক্রান্ত সমস্যার জন্য পরামর্শ দেয়া হবে যদি কোন ব্যক্তি ঐ সমস্যার সম্মুখীন হন
প্রশ্ন : আমার ভাইয়ের দোকানে জাল টাকা পাওয়ার অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তার নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন তার জামিন বা মুক্তির জন্য কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভাল হয় ? আমরা উকিল নিযুক্ত করেছি ।
দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম বা বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা :
প্রশ্ন : দেওয়ানী আদালত কত প্রকারের ?
প্রশ্ন : পারিবারিক আদালতে কি ধরনের মামলা করা যায় ।
কোন প্রকার অনৈতিক প্রশ্নের উত্তর হেল্পলাইন থেকে দেয়া হয়না :
যেমন: (আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার তেমন কোন শারিরিক সম্পর্ক নাই। অতএব আমার অন্য একজন বিবাহিত মহিলার সঙ্গে ভালবেসে শারিরিক সম্পর্ক হয়ে গেছে। আমি এখন মহিলাকে গোপনে বিয়ে করতে চাই। কারণ ঐ মহিলাটির ও স্বামী সংসার হইতে বিতাড়িত এবং মহিলাটির ২ টি কন্যা সন্তান আছে এবং আমার নিজের ও ২টি কন্য সন্তান আছে। সেক্ষেত্রে আমার কি করা উচিত পরামর্শ চাই।)
অর্থাৎ মানুষের নীতি বা অধিকারকে লংঘন করে এমন কোন বিষয়ে হেল্পলাইন থেকে পরামর্শ দেয়া হয়না ।
আইন বিষয়ক প্রশ্ন পাঠানোর সময় যে সকল তথ্য প্রশ্নের মধ্যে অবশ্যই থাকতে হবে সেগুলো হলো:

. প্রশ্নকারীর নাম
. সেবা গ্রহণকারীর নাম, বয়স।
. বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে কতদিন আগে বিয়ে হয়েছে বা তালাক হয়েছে, কাবিননামা আছে কিনা, বিয়ে রেজিষ্ট্রি হয়েছে কিনা, দেনমোহর কত টাকা,স্বামী যদি স্ত্রীকে বাবার বাড়ি তাড়িয়ে দেয় তবে কতদিন আগে তাড়িয়ে দিয়েছে, স্ত্রী ও সন্তানরা ভরনপোষন পায় কিনা।
. তালাকের ক্ষেত্রে কতদিন আগে তালাক হয়েছে, নারীটি গর্ভবতী ছিল কিনা,তালাক দিয়ে থাকলে কোন প্রক্রিয়ায় তালাক দিয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে।
. ২য় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েছে কিনা তা উল্লেখ করতে হবে।
. যৌতুকের জন্য কি ধরনের নির্যাতন হয়েছে এবং কে কে নির্যাতন করছে তার বিবরণ।
. অভিভাবকত্বের প্রশ্নে ছেলে ও মেয়ে সন্তানের বয়স।
. জমি জমার সমস্যার ক্ষেত্রে জমির পরিমান ও বর্তমান মূল্য, জমি থেকে বেদখল হলে কতদিন আগে বেদখল হয়েছে , জমি দখল করলে কি হিসাবে সে জমি দখল করছে সে তথ্য অর্থাৎ সে জমি ক্রয়সূত্রে মালিক নাকি দখল সূত্রে মালিক সে তথ্য, জমি মালিক হলে জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে কিনা এবং জমির দলিল আছে কিনা সে তথ্য, সম্পত্তির অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে যার সম্পত্তি সে দাবী করছে তার সাথে রক্তের সম্পর্ক কি ? জমির মালিকানা সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজ জমির মালিকের আছে কিনা ?

কেস স্টাডি
নাম : ফরিদা বেগম
গ্রাম যাদুর হাট, বনপাড়া
ডাক : যাদুর হাট
উপজেলা +জেলা : নীলফামারী
কোড নং : SU-R-1-19
বিষয় : আইন (যৌতুকের জন্য নির্যাতন)
মাধ্যম : মোবাইল থেকে মোবাইল
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরন : নীলফামারী জেলার কাপড়া সরমজানী ইউনিয়নের যাদুর হাট গ্রামের বনপাড়ায় বসবাস করতো ১৭ বছরের ফরিদা বেগম । ঘরে তার বিধবা মা ফাতেমা বেগম । আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে মেয়ে সাবালিকা হওয়ার আগেই তাই তাড়াতাড়ি করে মেয়েকে পাত্রস্থ করেন ফরিদা বেগমের মা । বিয়ের তিন মাস পরে অন্ত:সত্বা হয়ে পড়েন ফরিদা বেগম । অন্ত:সত্বা হওয়ার সাথে সাথে অসুস্থতার অজুহাতে স্বামী মশিউর রহমান ফরিদাকে তার বিধবা মায়ের কাছে রেখে ঢাকায় চলে যান । কিন্তু দীর্ঘ ৭ মাস পরও ফরিদার স্বামী তার খোঁজ খবর নিলেন না । তখন ফরিদার মা লোকমুখে এবং মেয়ের মাধ্যমে জানতে পারলেন তার মেয়ের স্বামী ফোনে জানিয়েছে নগদ ১০ হাজার টাকা না দিতে পারলে তার মেয়েকে নিয়ে আর সংসার করবেন না মশিউর রহমান । এর আগেও ফরিদা বেগমকে বিয়ের পর পরই তার স্বামী শারিরিকভাবে নির্যাতন করলেও তিনি নীরবে তা সহ্য করেছেন । কিন্তু যৌতুক নিয়ে তার স্বামীর এরুপ আচরনের কারনে এবার তিনি বিষয়টি তার মাকে জানালেন ।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় সালিশ এর আয়োজন : এরপর তার মা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহায়তায় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের আয়োজন করেন । কিন্তু সালিশের সিদ্ধান্ত ফরিদার স্বামী মশিউর রহমান মানতে অস্বীকার করেন ।
পল্লীতথ্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ : আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ফাতেমা বেগম বিষয়টি কিভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করলেন । ফরিদার মা ফাতেমা বেগম জানতেন তার প্রতিবেশি উম্মে সালমা পল্লীতথ্য কেন্দ্রে কাজ করেন এবং পল্লীতথ্য কেন্দ্রে নানা রকম তথ্য পাওয়া যায় । তিনি তখন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি পল্লীতথ্য কেন্দ্রের সহায়তা নিবেন । এরপর তিনি দ্রুত ১০.০৮.২০০৭ তারিখে পল্লীতথ্যকেন্দ্রের সালমার সাথে যোগাযোগ করলেন । সালমা তাকে নিয়ে পল্লী তথ্য কেন্দ্রে গেলেন এবং জানালেন ঢাকায় ডিনেটের হেল্পলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞগণ পরামর্শ দিয়ে থাকেন । এ কথা জানার পর সালমা বেগমের সহায়তায় ফাতেমা বেগম পল্লীতথ্য কেন্দ্র থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডিনেটের হেল্পলাইনে একজন আইন বিশেষজ্ঞের সাথে সরাসরি কথা বলেন । হেল্পলাইন বিশেষজ্ঞ ফাতেমা বেগমকে প্রথমে সালিশ এর মাধ্যমে এবং সালিশের মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান না হলে পরবর্তিতে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন । হেল্পলাইন বিশেষজ্ঞ তাকে আরও জানান, ব্রাক বিনা খরচে সালিশ এবং আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে । তাই তিনি ফাতেমা বেগমকে তার মেয়ে সহ স্থানীয় ব্রাক অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।
বিনা খরচে ব্রাক এর আইনি সহায়তা লাভ ও সমস্যার সমাধান : হেল্পলাইনের আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ফাতেমা বেগম তার মেয়ে ফরিদা বেগমকে সাথে নিয়ে ব্রাক এর নীলফামারি কার্যালয়ে ব্রাক লিগ্যাল এইড শাখার সহায়তায় গত ১৪.০৮.২০০৭ তারিখে জামাতা মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন এবং বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তির আবেদন জানান । এরই ফলশ্র“তিতে ১৮.০৯.২০০৭ তারিখে উকিল নোটিশের প্রেক্ষিতে ২৫.০৯.২০০৭ তারিখে ব্রাক এর নীলফামারি কার্যালয়ে ফাতেমা বেগম, স্বামী মশিউর রহমান সহ উভয়পক্ষের অভিভাবক এবং ব্রাক এর সালিশ বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের সহায়তায় সালিশ অনুষ্ঠিত হয় । সালিশে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য পালন, স্ত্রীর উপর নির্যাতনের শাস্তির ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে তুলে ফরিদা বেগম ও মশিউর রহমানের দাম্পত্য জীবনের কলহটি সমাধানের চেষ্টা করা হয় । সালিশে উভয় পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে লিখিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অবশেষে সালিশটি সফলভাবে নিস্পত্তি হয় । উল্লেখ্য, লিখিত সিদ্ধান্তে নীলফামারি পল্লীতথ্য কেন্দ্র উক্ত সালিশের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে সালিশনামায় স্বাক্ষর করেন ।
সালিশ পরবর্তী পরিস্থিতি : সালিশের মাধ্যমে উভয়পক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক পূন:স্থাপন হয় এবং মশিউর রহমান যৌতুক ছাড়া ফাতেমা বেগমের সাথে সংসার করতে সম্মত হয় । বর্তমানে ফরিদা বেগম তার শ্বশুর বাড়িতে স্বামীর সাথে সুখে ঘর সংসার করছেন । এভাবেই হেল্পলাইনের আইনি পরামর্শ গ্রহণ ফাতেমা বেগমের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে ।
হেল্পলাইন থেকে সেবা গ্রহনের ফলে সালিশের ফলে ফরিদা বেগম যেভাবে লাভবান হলেন :
আর্থিক লাভ :
হেল্পলাইন থেকে সেবা গ্রহনের ফলে ফরিদা বেগম আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন । কারন তিনি যেহেতু ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সালিশ করার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি সেহেতু তার সমস্যাটি সমাধানের বিষয়ে পরামর্শ গ্রহনের জন্য তাকে বার কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত একজন আইনজীবীর শরনাপন্ন হতে হতো । এতে ফাতেমা বেগম কে কমপক্ষে ২০০ /=(দুইশত টাকা) ফি দিতে হতো আইনজীবিকে । এরপর আইনজীবি তাকে মামলা করার পরামর্শ দিতেন । এতে তার মামলা খরচ বাবদ কমপক্ষে ৫০০০/=(পাঁচ হাজার টাকা) এবং সে যদি কোন মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমেও মামলা করতো তাহলে তার মামলার যাবতীয় খরচ না লাগলেও যাতায়াত খরচ বাবদ বেশ কিছু টাকা ব্যয় হতো ।
সময়ের সাশ্রয় :
ফরিদা বেগম মামলার আশ্রয় নিলে মামলা নিস্পত্তি হতে দুইবছরের অধিক সময় অতিবাহিত হয়ে যেত । তারপরও সে শেষ পর্যন্ত প্রতিকার পেত কিনা সে বিষয়ে কোন নিশ্চয়তা ছিলনা । কিন্তু সালিশের আশ্রয় নেওয়ার ফলে স্বল্পসময়ে তার সমস্যাটি সমাধান সম্ভব হয়েছে ।
সামাজিকভাবে সম্মান, গোপনীয়তা রক্ষা ও পারিবারিক শান্তি
হেল্পলাইনের পরামর্শে সালিশের আশ্রয় নেওয়ার ফলে ফরিদা বেগমের এই পারিবারিক সমস্যাটি অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে । এর ফলে তার সামাজিক সম্মানও রক্ষা হয়েছে । অপরপক্ষে, আদালতের আশ্রয় নিলে তার এই সমস্যাটির গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব । এর ফলে ফরিদা বেগমের পারিবারিক শান্তি ফিরে এসেছে ।


সর্বশেষ ৫টি প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন
:
আজ ২ বছর হলো আমার বিয়ে হয়েছে। আমার স্বামী আমাকে মারধর করে। এর প্রতিকার কি?
উত্তর
:
=====
প্রশ্ন
:
: বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন বছর ধরে এর আগে থেকে প্রচুর সাদা স্‌্রাব হয়। এছাড়া কোমরে কিটকিট করে ব্যাথা করে, শরীর খুব দূর্বল এবং জ্বরায়ুতে জ্বালাপোড়া করে। এই রোগের ভাল প্রতিকার কি?
উত্তর
:


: ১) Tab. Secnid ds 2gm, ০+১+০ , খাবেন
১দিন



         2) A- Fun VT , পরপর ৩রাত মাসিকের রাস্তায়   ব্যবহার করবেন



 




প্রশ্ন
:
একটি জমিনের সঠিক পরিমাপ নিয়ে দন্দ৷ এক এক আমিন ঐ জমিনটি পরিমাপ করে এক এক রকম পরিমাপ জেনে দেয় ৷ ঐ জমিনটিতে বাঁশ থাকায় , বাঁশ কেটে নেওয়ার সময় দুই পক্ষের ভিতরে দন্দ লেগে যায়৷ এভাবে এ দন্দটি এখনো চলে আসছে৷ এছাড়া জমি মাপার জন্য সরকারী আমিন নিয়ে আসতে চায় , তার সরকরী ফী কত? এই সমস্যা সমাধানের জন্য সঠিক পরামর্শ চাই৷
উত্তর
:
- সরকারী আমিনের কোন ফি নেই ৷
- আমিন জমি মেপে দেয়ার পর আপনারা যদি সন্তুষ্ট না হন তাহলে স্থানীয়ভাবে সালিশের ব্যবস্থা করতে পারেন৷ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে জেলা জজ কোর্টে ব্যক্তিগতভাবে উকিলের মাধ্যমে সালিশের কপিসহ মামলা করতে পারেন৷
প্রশ্ন
:

আমার নাম উষা মজুমদার। আমার বিয়ে হয়েছে ৩৭ বছর আগে । আমার বিবাহের সময় আমার স্বামী ১৮ বিঘা সম্পত্তি ছিল। সংসারের শুরুতেই তার চরিত্র খুবই খারাপ ছিল । মাথায় সামান্য সমস্যা ছিল । মানুষের প্রলোভন আর উস্কানির জন্য মদ গাজা এবং জুয়া ছিল তার নিত্য দিনের সঙ্গি। এভাবে সে জাগাজমি সব বিক্রি করে নষ্ট করেছে। এখন তার বয়স হয়েছে । সংসারের সব কিছু সে বিক্রি করে এখন বসত বাড়িটুকু বিক্রি করতে চায় । আমি এ নিয়ে আনেক মার খেয়েছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না । সে আমাদের বসত ভিটা বিক্রি করবেই । আমি বলতে চাই আমাদের যে সম্পত্তি আছে তা যেন বিক্রি করতে না পারে । এখন আমি কি ভাবে এই সর্বনাশ থেকে রক্ষা পেতে পারি তাহার উত্তর জানতে চাই ।
উত্তর
:


আপনার ¯^vgx যে জমি বিক্রয় করেছেন তা যদি তার নিজের নামে রেজিস্ট্রি করা থাকে তবে সেক্ষেত্রে
তার কোন আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই
কিন্তু
আপনি বলেছেন আপনাদের জমি
আপনাদের
জমি বলতে আপনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তা আপনার প্রশ্নতে পরিস্কার নয়
আপনার ¯^vgxi
জমিতে আপনি তখনই উত্তরাধিকার হবেন যখন আপনার ¯^vgx মারা যাবেন আপনি বরং আদালতে নিষেধাজ্ঞার মামলা করতে পারেন অথবা আপনার
নিকটস্থ ব্রাক অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন
ব্রাক
অফিস একটি সালিশের আয়োজন করে আপনার সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করতে পারে




প্রশ্ন
:
আমার স্বামী মারা গেছেন । তাঁর সম্পত্তি তার ভাইদের সাথে একত্রে রয়েছে । এখন আমি জানতে চাই আমার স্বামী সম্পত্তির অংশ আমার ছেলে মেয়ে এবং আমার অংশ বুঝে পেতে হলে আমাদের করনীয় কি ?
উত্তর
:


আপনাদের সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার জন্য বাটোয়ারা মামলা করে আদায়
করতে পারেন
এর জন্য আপনারা যে ঐ জমির উত্তরাধিকার
এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিল বা কাগজপত্র সংগ্রহ করে মামলা দায়ের করতে পারেন
এছাড়া জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং উপযুক্ত কোর্ট ফি লাগবে




Untitled Document
 


Extension : 16


Skype Id :
law.human.rights.16


 

  © 2010 Teletathya. Design & Developed By D.Net Team