User ID :  
Password:  

মৎস্য সম্পদ

ভূমিকা :

অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলজ জীব, যেমন মাছ, চিংড়ি, সামুদ্রিক আগাছা, কাঁকড়া ইত্যাদি সামগ্রিকভাবে মৎস্য সম্পদ বলে। প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশে প্রচুর জলাশয়, খাল বিল, হাওড় বাওড়, নদীনালা বিদ্যমান যেখান থেকে আমরা প্রায় সারা বৎসর পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ পেয়ে আসছি এবং যা আমাদের প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদা পূরনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের দ্রুত বর্ধণশীল জনসংখ্যার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য মাছের বর্তমান উৎপাদনকে আরো অনেক বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ছোট বড়, মজা-উর্বর, পতিত সব জলাশয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছ চাষের আওতায় আনা। অথচ শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবে কিংবা উপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা, তথ্য ও প্রযুক্তির অভাবে আমাদের সব জলাশয়কে মাছ চাষের আওতায় আনা যাচ্ছে না। আবার চাষের পুকুরে যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতার অভাবে এবং আহরণ পরবর্তী ব্যবস্থাপনার দূর্বলতার কারণে খামারীরা প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ডি.নেট হেল্পলাইন থেকে প্রদত্ত মৎস্য সম্পদ বিষয়ক সেবার ধরন এবং প্রশ্নের উদাহরণ

মৎস্য চাষের বিভিন্ন ধাপে আমাদের দেশের খামারীরা সচরাচর যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয় অথবা যেসব ক্ষেত্রে খামারীদের প্রযুক্তি ও তথ্য সেবা প্রদানের মাধ্যমে আরও সংগঠিত করা যায় সে চেষ্টাই মূলত ডি.নেট করে থাকে। ডি.নেট হেল্প লাইনে একজন প্রশ্নকারী মাছ চাষ, বিপণন, স¤প্রসারণ বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেয়ে থাকে, হেল্পলাইন থেকে সরাসরি মোবাইল ফোনে/ই-মেইলে/ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন। মোবাইল লেডিরা গ্রামে ঘুরে ঘুরে সুবিধাভোগীদের নিকট গিয়ে তাদের প্রয়োজন ভিত্তিক প্রশ্ন সংগ্রহ করবেন।

মৎস্য চাষ
অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপ‚র্ণ জলজ জীব (যেমন মাছ, চিংড়ি, সামুদ্রিক আগাছা, কাঁকড়া) এর চাষ যার একটি একক বা যৌথ মালিকানা থাকবে এবং সে বা তাহারা নিয়মিত মজুদকরণ, লালন পালন, খাদ্য প্রয়োগ, শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করবে এবং লালন পালন শেষে এর আহরণ করবে।
নমুনা প্রশ্ন: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার একজন খামারীর একসাথে ৩০০ শতক জমি আছে যেখানে বৎসরে একবার ধান চাষ করেন এবং পরবর্তী সময়ে লবণ পানি প্রবেশ করে। এ সময় অন্য কোন কৃষি পণ্য/ফসল ফলানো যায়না। এখন তিনি কিভাবে এই জমির সঠিক ব্যবহার করে লাভবান হতে পারবেন।
চাষের প্রকারভেদ
মজুদকৃত প্রজাতি ও এর ধরনের উপর ভিত্তি করে মৎস্য চাষ কে সাধারণত: তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন :
ক. একক চাষ
খ. মিশ্র চাষ
গ. সমন্বিত চাষ
নমুনা প্রশ্ন: মিশ্র চাষের ক্ষেত্রে কি কি প্রজাতি একসাথে চাষ করা লাভজনক ও সেক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রজাতির মজুদ ঘনত্ব কত হবে?
নমুনা প্রশ্ন: সমন্বিত চাষের ক্ষেত্রে মাছের সাথে আর কোন প্রজাতি (হাঁস/মুরগী/সব্জি/গরু মোটাতাজাকরন) সমন্বয় করা লাভজনক বা সেক্ষেত্রে করনীয় বিষয়গুলো কি কি?
মজুদ ঘনত্ব ও ব্যবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে মৎস্য চাষ কে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন :
ক. ব্যাপক পদ্ধতি
খ. উন্নত ব্যাপক পদ্ধতি
গ. আধানিবিড় পদ্ধতি
ঘ. নিবিড় পদ্ধতি
নমুনা প্রশ্ন: কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার রহিম উদ্দীনের বসতবাড়ীর পাশে ১০০ শতকের নিচু জমি আছে যেখানে তিনি বৎসরে একবার ধান চাষ করেন এবং বর্ষাকালে সেখানে গড়ে ২-৩ ফুট পানি জমে থাকে তখন সেখানে তিনি কোন ফসল ফলাতে পারেন না। তিনি এই জমি কিভাবে কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারেন।
স্থান/পুকুর নির্বাচন/পুকুর খনন
মাছ চাষের সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করে স্থান নির্বাচনের উপর। সেজন্য মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত-রাসায়নিক ও জৈবিক সুযোগ সুবিধা নির্বাচিত স্থানে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় আছে কি-না তা স্থান নির্বাচন/পুকুর খনন করার সময় যথাযথভাবে বিবেচনা করা দরকার। নির্বাচিত চাষ পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে স্থান/পুকুর নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়গুলো আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। তাছাড়া ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনার সুবিধার্তে পুকুরের আকার ও আয়তন কেমন হবে তা নির্ভর করে।
স্থান/পুকুর নির্বাচন/পুকুর খনন করার সময় নি¡লিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা দরকার:
ক. বন্যামুক্ত ও উঁচু এলাকা।
খ. মাটির গুণাগুণ যেমন মাটির ধরণ সাধারনত: বেলে দোআঁশ, পানি ধারণক্ষমতা ভাল, পিএইচ মাত্রা গ্রহণযোগ্য
গ. পানির গুণাগুণ যেমন পানির জৈবিক ও রাসায়নিক গুণাগুণ যেমন- বিদ্যমান খাদ্যকণা, বিভিন্ন অণুজীব, প্রয়োজনীয় খণিজ, পিএইচ মাত্রা ইত্যাদি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় বিদ্যমান।
ঘ. ভৌত অবকাঠামো ও সুযোগ সুবিধা (যেমন পুকুরের পাড় মজবুত, পানি সরবরাহ ও নিষাশন ব্যবস্থা ভাল, যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাল)।
ঙ. ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে পুকুরের আকার সাধারণত আয়তাকার এবং মজুদ পুকুরের আয়তন ১-১.৫ একর (১০০-১৫০ শতাংশ) হলে ভাল।
নমুনা প্রশ্ন: একজন ব্যবসায়ী নতুন করে মাছের খামার করবেন, তিনি এ উদ্দেশ্যে ৫ একর জমি কিনতে চান যেখানে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। কিন্তু মাছের খামার করার জন্য কি ধরনের জমি দরকার এবং কিভাবে পুকুর তৈরী করতে হয় তিনি তা জানেন না এবং এ ব্যাপারে তিনি কোথায় পরামর্শ পেতে পারেন তাও জানেন না, এখন তিনি কি করবেন ?
নমুনা প্রশ্ন: বিদ্যমান পুকুরের আকার, আয়তন, ভৌত, রাসায়নি ও অবকাঠামোগত সুবিধাদির উপর ভিত্তি করে কোন ধরণের চাষ পদ্ধতি অধিক লাভজনক তা নির্বাচন করবেন কিভাবে?
পুকুর প্রস্তুতি
পুরাতন পুকুরকে মাছ চাষের উপযোগী করার জন্য পুকুর পানি নিষ্কাশন, তলদেশের পঁচা কাদা সরিয়ে ফেলা, চুন প্রয়োগ, সার প্রয়োগ, পুনরায় পানি প্রবেশ করানো, পোনা মজুদকরণ ইত্যাদি কাজগুলো পর্যায়ক্রমে অনুসরণ করতে হবে। পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে পুকুরের আগাছা ভালভাবে পরিষ্কার করা, অবাঞ্চিত প্রজাতি দ‚র করা, চুন, সার প্রয়োগ করা, পোনা মজুদ করা ইত্যাদি কাজগুলো পর্যায়ক্রমে করতে হবে।
নমুনা প্রশ্ন: একজন খামারীর পুকুরের আয়তন ৪০ শতাংশ, পুকুরটি ২-৩ বৎসর যাবৎ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, পুকুরের পানির রং কালো হয়ে গেছে, পুকুরের পানিতে গাছের পাতা পড়ে পচেঁ গিয়ে দ‚র্গন্ধ ছড়াচ্ছে, পুকুরের তলায় অনেক পুরু কাদার স্তর জমে আছে, পানি থেকে বুঁদবুঁদ ওঠে। এখন মালিক পুকুরটিতে মাছের চাষ করতে চান, তিনি কিভাবে মাছ চাষ শুরু করবেন?
পোনা নির্বাচন, মজুদ ও পরিচর্যা
নির্বাচিত প্রজাতির পোনা মজুদ করার সময় বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো যে হ্যাচারি থেকে পোনা কেনা হবে সেখানে ভাল ও পরিপক্ক ব্রুড থেকে পোনা উৎপাদন করা হয়েছে কি-না, পোনা সবল না দ‚র্বল, পোনার সাইজ কেমন ইত্যাদি। দ‚রবর্তী স্থানে পোনা পরিবহন করার সময় অক্রিজেন সহ পলিথিন ব্যাগে পরিবহন করতে হবে। পোনা ক্রয় করার প‚র্বে নিশ্চিত হতে হবে যে মজুদ পুকুর সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। পোনা মজুদের পুকুর আয়তনে ছোট (২০-৩০ শতাংশ) ও সদর জায়গায় (চোখের সামনে) হলে ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা করতে সহজ হয়।
নমুনা প্রশ্ন: ভাল পোনা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলো কি কি ও ভাল পোনা প্রাপ্তির স্থান কোথায়?
নমুনা প্রশ্ন: মিশ্র চাষের ক্ষেত্রে কি কি প্রজাতি নির্বাচন করতে হবে ও সেগুলোর মজুদ ঘনত্ব কত হবে?
নমুনা প্রশ্ন: পোনা লালন পালনের ক্ষেত্রে খাদ্য নির্বাচন ও খাদ্য প্রয়োগ মাত্রা কি রকম হবে?
নমুনা প্রশ্ন: একজন খামারীর পুকুরের আয়তন ২০ শতাংশ, পানির গভীরতা ৩ ফুটের মত, পানির রং ঘোলাটে, পোনা ছাড়ার প‚র্বে কোন প্রকার সার বা চুন প্রয়োগ করা হয়নি। বিগত ১০ দিন আগে সিলভার কার্প ও বাটা মাছের ৫ কেজি পোনা ছেড়েছেন। সমস্যা হলো মাছের পোনা পুকুরে ছাড়ার পর মারা যাচ্ছে। এখন কি করলে মাছের পোনা মরা বন্ধ হবে?
লালন পালন পুকুরে মজুদ ও ব্যবস্থাপনা
নার্সারী পুকুরে লালন পালন শেষে পোনাগুলোকে মজুদ পুকুরে নিতে হয় যেখানে মাছগুলোকে বিক্রি উপযোগী করা হয়। মাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য এই পুকুরে নিয়মিত চুন, সার, মাছের সম্প‚রক খাবার প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে নমুনা মাছ ধরে স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পরীক্ষা করা হয়, কোন রোগবালাই দেখা দিলে তার যথাযথ প্রতিকার/প্রতিষেধক ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং লালন পালন শেষে মাছ আহরণ করা হয়।
নমুনা প্রশ্ন: একজন খামারীর পুকুরের আয়তন ৫০ শতাংশ, বৎসরের মধ্যে ৬ মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) পানির গভীরতা গড়ে ৩ ফুট থাকে, পরবর্তী সময়ে পানি প্রায় শুকিয়ে যায়, পুকুরে পানি সরবরাহ করার তেমন ভাল ব্যবস্থা নেই, তাহলে এই পুকুরে তিনি কি প্রজাতির মাছ চাষ করবেন?
মজুদ পরবর্তী পরিচর্যা
মজুদকৃত পুকুরে নিয়মিত চুন, সার প্রয়োগ, প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি পরীক্ষা করা অথবা মাছকে নিয়মিত সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ, মাছের বৃদ্ধি হার পরীক্ষা করা, পুকুরের পাড় ও পুকুরের ভেতরের আগাছা পরিষ্কার করা, শত্র“র হাত থেকে রক্ষা করা ইত্যাদি।
নমুনা প্রশ্ন: একজন খামারীর ৭৫ শতাংশ পুকুরে ১০ হাজার পাঙ্গাস মাছ আছে, মাছের ওজন এখন গড়ে ২৫০ গ্রাম, নিয়মিত সম্পুরক খাদ্য প্রয়োগ করেন, কিন্তু সমস্যা হলো পুকুরে পানি গাঢ় সবুজ হয়ে গেছে, মাছ খাবার কম খাচ্ছে ফলে মাছের ওজন বৃদ্ধি খুবই কম, এখন তিনি কি করবেন?
মাছের রোগ-বালাই
নিয়মিত কিছু সংখ্যক নমুনা মাছ নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা কোন রোগবালাই হয়েছে কি-না, পুকুরে মরা মাছ ভাসছে কি-না, মৃত মাছে কোন ক্ষত দেখা যায় কি-না ইত্যাদি।
নমুনা প্রশ্ন: একজন খামারীর ৫০ শতাংশের পুকুরে ৫০০০ হাজার পাঙ্গাস, ৫০০ সিলভার কার্প, ৩০০ রুই ও ২৫০ টি মৃগেল মাছ আছে যার মধ্যে সিলভার কার্প মাছের ওজন গড়ে ২৫০ গ্রাম কিন্তু সমস্যা হলো বিগত এক সপ্তাহ আগে দু-একটি মাছের পিঠে ও লেজের দিকে লালচে ক্ষত দেখা দেয়, এরপর সময়ের সাথে সাথে আক্রান্ত মাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে, ক্ষতের তীব্রতাও বাড়তে থাকে এবং পাশাপাশি দু-একটি মৃত মাছ পানির উপড়ে ভাসতে দেখা যায়, এখন তিনি কি করবেন?
মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ
মাছ বড় হলে/বিক্রির উপযোগী হলে বাজার মূল্য যাচাই বাছাই করে/ক্রেতা নির্বাচন ও মূল্য স্থির করে, মাছ আহরণ করতে হবে। আহরণ শেষে পুকুর ভালভাবে প্রস্তুত করে পুনরায় পোনা মজুদ করতে হবে।
নমুনা প্রশ্ন: একজন খামারীর ৫০ শতাংশের একটি বাৎসরিক পুকুরে একাধিকবারে ছাড়া মোট ৬০০০ গিফট তেলাপিয়া মাছ, ৫০০ সিলভার কার্প, ২০০ রুই, ২৫০ টি মৃগেল মাছ আছে যার মধ্যে প্রথম বারে ছাড়া ৪০০০ হাজার তেলাপিয়া মাছের ওজন গড়ে ৩৫০ গ্রাম/পিছ হয়েছে, অবশিষ্ট তেলাপিয়ার ওজন গড়ে ৭০ গ্রাম/পিছ, সিলভার কার্প গড়ে ২৫০ গ্রাম/পিছ, রুই গড়ে ১৭০ গ্রাম/পিছ, মৃগেল গড়ে ২০০ গ্রাম/পিছ হয়েছে। এখন পুকুরে প্রয়োগকৃত খাবারের পরিমাণ অনুযায়ী ওজন বৃদ্ধি (এফসিআর) ভাল হচ্ছে না, এখন তিনি কি করবেন?
নমুনা প্রশ্ন: গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার একজন খামারী তার পুকুরের ৩০০০ পিছ পাঙ্গাস মাছ ধরবেন বলে স্থির করেছেন, প্রতিটি মাছের গড় ওজন ১৫০০ গ্রাম। কিন্তু সেখানকার স্থানীয় বাজারে এত বড় পাঙ্গাস মাছের ক্রেতা কম এবং দামও কম জন্য তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে ঢাকার যাত্রাবাড়ী আড়ে মাছ পাঠাবেন। সাঘাটা থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত পেীঁছাতে ট্রাকের প্রায় ৬-৭ ঘন্টা সময় লেগে যায়। মাছ তাজা ও সতেজ রাখতে হবে না হলে বাজার ম‚ল্য পাবেন না। তিনি কিভাবে মাছ পরিবহন করবেন?
মাছ চাষে আয়-ব্যয় হিসেব
বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষের ক্ষেত্রে অবশ্যই মাছ হিসেব করে পুকুরে মজুদ করতে হবে এবং আহরণের সময় কত সংখ্যক মাছ আহরণ করা হলো তাও হিসেব করতে হবে। আর দ্র“ত মাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে ও অধিক লাভবান হতে হলে নিয়মিত সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।
নমুনা প্রশ্ন: ঝিনাইদহ জেলার খামারী, আবুল কাশেম ৬০ শতাংশের একটি পুকুরে গত বৎসর বর্ষাকালে একবারে ১০ কেজি রুই, ৭ কেজি সিলভার কার্প, ৫ কেজি মৃগেল, ৫ কেজি কাতলা মাছের পোনা ছাড়েন। পুকুরে মাঝে মাঝে কিছু ইউরিয়া সার, গরুর গোবর প্রয়োগ করেন, কিন্তু কোন সম্প‚রক মাছের খাবার প্রয়োগ করেন নাই। মাছের বৃদ্ধি খুব ধীর গতিতে হতে থাকে, মাছ বড় হতে থাকলে সেখান থেকে নিয়মিত মাছ ধরে নিজে বাড়ীতে খান, কিছু আত্মীয় স্বজনকে দেন, কিছু বিক্রি করেন। আহরণের সময় তিনি দেখেন মাছের গড় ওজন খুব একটা সন্তোষজনক নয়। কিন্তু এ বৎসর পুনরায় মাছের পোনা কেনা, মাছের জন্য খাবার কেনার টাকা যোগাড় করতে পারছেন না কিংবা আগ্রহী নন, তার ধানণা মাছ চাষ লাভজনক নয়, কিভাবে তিনি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক মাছ চাষ করতে পারবেন?
মৎস্য বিষয়ক প্রশ্ন হেল্প লাইনে পাঠানোর সময় যে সকল বিষয় উল্লেখ করতে হবে
. সেবা গ্রহণকারীর নাম, ঠিকানা, বয়স ।
. প্রশ্ন মাছ চাষাবাদ সম্পর্কিত হলে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করতে হবে - পুকুরের আয়তন, পানির গভীরতা, পানির রং, মোট কত মাছ আছে, মাছের গড় ওজন কত, কি কি মাছ আছে ইত্যাদি।
. মাছের রোগবালাই সম্পর্কিত প্রশ্ন করতে হলে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করতে হবে - পানির পিএইচ কত, পানির রং কি রকম, দৈনিক খাদ্য প্রয়োগের পরিমাণ, রোগের ধরণ, মাছের দেহে ক্ষত আছে কি-না ইত্যাদি।
সর্বশেষ ৫টি প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন
:
৬০ শতাংশ পুকুরে কি পরিমান মাছ চাষ করা যায় এবং কি ধরনের মাছ চাষ করা যেতে পারে ?
উত্তর
:


আপনি কার্প জাতীয় মাছ মিশ্র
চাষ করতে পারেন।



কার্প জাতীয় মাছের মিশ্রচাষের ব্যবস্থাপনায় পোনা
মজুদের ক্ষেত্রে প্রজাতি নির্বাচনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ন
পুকুরে মাছ চাষের সফলতা
নির্ভর করে ভাল জাতের সুস্থ
, সবল , চলাফেরায়
চঞ্চল
, উজ্জ্বল রঙের ও সঠিক প্রজাতির পোনা সঠিক সংখ্যায় মজুদের উপর পোনার মজুদ ঘনত্ব
নির্ভর করে চাষ পদ্ধতির উপর
পুকুরের সর্বস্তরে বিচরণ করে এরুপ প্রজাতির ৪-৫ ইঞ্চি আকারের বড় পোনা মজুদ
করলে বেশী ফলন পাওয়া যাবে

মিশ্র চাষের পুকুরে প্রতি শতাংশে পোনা
মজুদের তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো













































পুকুরের স্তর



মাছের প্রজাতি



প্রতি শতাংশে পোনা মজুদ ( টি)



শুধূ সার ব্যবহার



সার ও খাদ্য ব্যবহার



উপরের
স্তর


 



সিলভার
কার্প


কাতলা


বিগহেড
কার্প



৪-৬


২-৩


১-২



৮-১০


৩-৪


২-৩



মধ্য
স্তর



রুই



৫-৭



৯-১০



নীচের
স্তর



মৃগেল/
কালিবাউশ


মিরর
কার্প/ কমন কার্প



২-৩


৩-৪



৩-৪


৪-৫



সকল
স্তর



গ্রাস
কার্প


সরপুঁটি



১-২


২-৩



২-৩


৪-৬



গড় মজুদ
ঘনত্ব



২৫



৪০






ঠান্ডা আবহাওয়ায় সকালে বা বিকালে পুকুরের পানির
তাপমাত্রার সাথে পোনা পরিবহন পাত্রের পানির তাপমাত্রার সমতা এনে পোনা ছাড়তে হবে
 



বি.দ্র.: আপনার জমির পরিমান ৬০
শতাংশ; তাই আপনি ৬০ দিয়ে গুন করে প্রয়োজনীয় মাছের পোনর সংখ্যা ও খাদ্যের পরিমান
হিসেব করে বের করে নিবেন।



 




প্রশ্ন
:
আমার ২টি পুকুর আছে। পুকুরে অনেক ধরণের মাছ রয়েছে কিন' পুকুরের মাছ বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। কী প্রক্রিয়া অবলম্বন করলে পুকুরের মাছ বড় হবে।
উত্তর
:
পুকুরে নিয়মিত সার না দিলে এবং সময়মতো সঠিক পরিমাণে খাবার না দিলে মাছ বড় হতে পারে না। এজন্য-

পুকুরে নিয়মিত সার প্রদান
চাষ চলাকালে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণ ঠিক রাখতে নিয়মিত প্রয়োজনীয় মাত্রায় জৈব ও অজৈব সার একত্রে প্রয়োগ করুন। নির্দিষ্ট পরিমাণ সার পাত্রের মধ্যে তিন গুণ পানিতে গুলিয়ে ১২-২৪ ঘন্টা রেখে দিন, এরপর গুলানো মিশ্র সার সমানভাবে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিন। প্রতিদিন নিম্নলিখিত হারে সার প্রয়োগ করুন: -

সার প্রতি শতাংশে
গোবর অথবা ২০০-২৫০ গ্রাম
কম্পোষ্ট অথবা ৩০০-৪০০ গ্রাম
হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ১৫০-২০০ গ্রাম
ইউরিয়া ৪-৫ গ্রাম
টিএসপি ৩ গ্রাম
** আপনার পুকুর যত শতাংশ উপরের সারের পরিমান কে তত সংখ্যা দিয়ে গুন করতে হবে।
পুকুরে নিয়মিত খাবার প্রদান
সম্পুরক খাদ্য হিসাবে চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, সরিষা বা তিলের খৈল, ফিসমিল, মিট ও বোন মিল ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়।

কীভাবে খাবার দেবেন
পরিমাণমতো খৈলের সাথে দ্বিগুণ পরিমাণ পানি মিশিয়ে এক রাত ভিজিয়ে রেখে, ভেজানো খৈলের সাথে কুঁড়া ভালভাবে মিশিয়ে বল তৈরী করুন। এক্ষেত্রে ৪ ভাগ খৈল, ৫ ভাগ কুঁড়া এবং ১ ভাগ ফিসমিল বা মিট ও বোন মিল এই অনুপাতে মিশিয়ে খাদ্য তৈরী করা যেতে পারে। অথবা ৩ ভাগ খৈল, ২.৫ ভাগ কুঁড়া এবং ২ ভাগ ফিসমিল বা মিট ও বোন মিল এই অনুপাতে মিশিয়ে খাদ্য তৈরী করা যেতে পারে। খাদ্য বলগুলো প্রয়োজনে রৌদ্রে একটু শুকিয়ে খাদ্যদানীতে করে নির্দ্দিষ্ট সময়ে তা প্রয়োগ করুন।

কোন সময়ে এবং কী হারে খাবার দেবেন
প্রতিদিন মাছের দৈহিক ওজনের ৫-১০ ভাগ হারে খাবার প্রয়োগ করুন। মোট খাদ্যের অর্ধেকটা সকালে এবং বাকি অর্ধেকটা বিকালে প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিদিন নিয়মিত একই সময়ে ও একই জায়গায় খাদ্য দিন।

বি:দ্র: জুন-জুলাই মাস রুই, কাতলা, মৃগেল পুকুরে ছাড়ার উত্তম সময়। তাই আসন্ন চাষের মৌসুমকে সামনে রেখে নিয়মমতো নতুনভাবে মাছ চাষ করে যথেষ্ট লাভবান হতে পারেন। নতুনভাবে মাছ চাষ করতে বিস্তারিত জানতে শুরু থেকেই পল্লীতথ্যকেন্দ্রের সহযোগিতা নিন।


প্রশ্ন
:
আমার কয়েকটি নাড়কেল গাছ আছে। গাছগুলোতে ছরা হয়,এক সপ্তাহ পর এগুলো পচেঁ যায় ।এমতাবস'ায় কি করণীয় ?
এছাড়া আরেকটি গাছ বড় হয়েছে।গাছে ফল ধরে,ফল গুলো একটু বড় হয়ে পুড়ে যাওয়ার অবস'া হয়ে ঝরে পড়ে।গাছের গুড়ায় পানি দেওয়া হয়।এখন প্রায় গাছটি মরা যাওয়া উপক্রম,এ অবস'ায় কি করণীয়?
উত্তর
:


গাছ প্রতি গোবর সার
১০ কেজি
, ইউরিয়া ১.৫ কেজি , টিএসপি ১ কেজি , ৫০০ গ্রাম জিপসাম , সোয়া ১ কেজি এমপি সার-এর
অর্ধেক পরিমাণ বর্ষার আগে ও বাকী অর্ধেক বর্ষার পর ব্যবহার করে আশানুরূপ ফল পেতে
পারেন
এ অবস্থায় নারকেল গাছের গোড়ার মাটি ভালভাবে কুপিয়ে
যথেষ্ট সেচের ব্যবস্থা করুন



আপনার নারকেল যদি
বোঁটার চারপাশ বাদামী হয়ে ঝরে পড়ে তাহলে গাছের বাড-রট রোগ হয়েছে
এই
রোগ দমনের উপায়:



গাছের মাথা
পরিষ্কার করে বোর্দোমিশ্রণ ছিটাতে হবে



বোর্দোমিশ্রণ তৈরীর পদ্ধতি



সাড়ে সতেরো লিটার
পানির সাথে ৩৫০ গ্রাম পাথুরে চুন ও অন্য সাড়ে সতেরো লিটার পানির সাথে ৩৫০ গ্রাম
তুঁতে আলাদা আলাদা ভাবে মাটির পাত্রে মিশাতে হবে
তারপর এই দুই
মিশ্রণ পুনরায় অপর এক মাটির পাত্রে ভালোভাবে মিশাতে হবে এবং আক্রান্ত গাছে
ছিটাত্রে হবে
১৫ দিন পর পর এভাবে নতুন মিশ্রণ তৈরী করে ছিটাতে হবে




প্রশ্ন
:
আমি প্রায় ১৫ শতাংশ পুকুরে প্রায় ২মাস আগে রুই মাছের পোনা ছেরেছিলাম। বর্তমানে পুকুরে পোনা মরে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে যে, অনেক মরা পোনা মাছের ১টি বা ২টি চোখ নেই। কোন ঔষধ প্রয়োগ করি নাই।
উত্তর
:
প্রথমে প্রকুরের পানিতে রশি টেনে দিয়ে অক্সিজেন চলাচলের ব্যবস'া করতে হবে। এর পর আপনি পুকুরের পানির পিএইছ পরীক্ষা করতে হবে, যততাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার এলাকার থানা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলো।


প্রশ্ন
:
সমস্যাঃ ঘেরের বাগদা ও গলদা হঠাৎ করে মারা যাচ্ছে। ঘেরের পরিমান ২ শতক। আগাছা পরিস্কার। মাঝে মাঝে গোবর সার দেওয়া হয়। গলদা মাছের ওজন ১০০ গ্রাম। খাবার দেওয়া হয় না। এর সমাধান কি?
উত্তর
:


২ শতক জায়গায় মোট কতগুলো গলদা ও বাগদা মাছ ছাড়া হয়েছিল তা
উল্লেখ করেন নাই
মাছের ঘনত্ব বেশি হলে অক্সিজেন
সংকটের কারনে মাছ মারা যেতে পারে
 



 



গলদা প্রতিটির ওজন ১০০ গ্রাম
হলে এবং মোট মাছের সংখ্যা বেশি হয়ে থাকলে ঘেরের মোট মাছের ওজন বেশি হওয়ার কারনে অক্সিজেন
সংকট দেখা দিতে পারে এবং মাছ মারা যেতে পারে সেক্ষেত্রে কিছু মাছ বিক্রি করে মাছের
ঘনত্ব কমিয়ে ফেলতে হবে



 



সকালে ও সন্ধ্যায় যদি চিংড়ি
ঘেরের পাড়ের গায়ে লেগে থাকে কিংবা ভেসে উঠে তাহলে বুঝতে হবে অক্সিজেন সংকটের কারণে
মাছ মারা যাচ্ছে এবং সেক্ষেত্রে অক্সিজেন সরবরাহকারী ঔষধ যেমন -
অক্সিগোল্ড বা অক্সিফ্লো সরবরাহ করতে হবে



 



যদি শুধুমাত্র বাগদা চিংড়ি মারা
যায় এবং খোলসের উপর মাথার দুই পাশে সাদা সাদা স্থায়ী দাগ দেখা দেয়
, এবং   তাহলে তা ভাইরাসের কারণে মাছ মারা যাচ্ছে এবং সেক্ষেত্রে
দ্রুত মাছ বিক্রি করে ফেলাই ভাল



 



যদি বিগত ১৫ দিনের মধ্যে চুন
প্রয়োগ করা না হয়ে থাকে তাহলে শতাংশ প্রতি ৫০০ গ্রাম হারে পাথুরে
চুন পানিতে ভালভাবে গুলিয়ে ঘেরে ছিটিয়ে দিলে ভাল ফল পাওয়া যাবে



 



মাছ মরা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত
গোবর প্রয়োগ বন্ধ রাখুন অথবা অর্ধেক পরিমাণ কমিয়ে ফেলুন




Untitled Document
 


Extension : 13


Skype Id :
fisheries.13


 

  © 2010 Teletathya. Design & Developed By D.Net Team